রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
মোঃ শাফায়েত হোসেন,বান্দরবান:
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বান্দরবানে ১২ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে সম্প্রীতি মিছিল ও জনসচেতনতা মূলক পথনাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকালে এই সম্প্রীতির মিছিল ও পথনাটক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন দলে দলে স্থানীয় রাজার মাঠে এসে জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধানে বিভিন্ন প্লেকার্ড হাতে নিয়ে এক বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তমঞ্চ এসে শেষ হয়। সেখানে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরুদ্ধে এক পথনাটক অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ে হানাহানি,সংঘাত ও সন্ত্রাসী কর্মন্ডান্ড বাদ দিয়ে শান্তির আহ্বান জানানোর জন্য এই সম্প্রীতির মিছিল ও পথনাটকের আয়োজন করা হয়। এই সম্প্রীতির মিছিল ও পথনাটকের মাধ্যমে জনগণকে জানাতে চাই, পাহাড়ের সাধারণ জনগণ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চাই না, তারা চাই শান্তি ও সম্প্রীতি। তাই যারা পাহাড়ের সম্প্রীতি নষ্ট করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বাদ দিয়ে শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য এই সম্প্রীতির মিছিলের মাধ্যমে আহ্বান জানান। বাঙ্গালীসহ ১২ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেয়।
এদিকে সম্প্রীতির সমাবেশে পাহাড়ী-বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দ বলেন-অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হয়েছে শান্তি ও সম্প্রীতির সমাবেশ।বান্দরবান শান্তি ও সম্প্রীতির জায়গা,এখানে পাহাড়ি-বাঙালি ১২টি সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম জেলা বান্দরবান। সম্প্রীতির বান্দরবানে যাতে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সবাই একসাথে শান্তি সম্প্রীতি রক্ষায় ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, ২০২২সালের সেপ্টেম্বরে জেলার দূর্গম এলাকা গুলোতে সশস্ত্র সংগঠন গুলোর আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৭ অক্টোবর রুমা-রোয়াংছড়িতে দেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞা কয়েক দফায় বাড়িয়ে রুমা-রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও থানচি উপজেলায়ও আরোপ করা হয়। পরে আলীকদম উপজেলা হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও রুমা-রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় বহাল রয়েছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলতি বছর ৩ ও ৪এপ্রিল রুমা ও থানচিতে তিনটি ব্যাংকে ডাকাতি করে সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ। পরে ৬এপ্রিল থেকে সন্ত্রাস দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরু করে। চলমান অভিযানে সেনাবাহীনির কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এছাড়া প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে পর্যটকদের নিরাপত্তা জনিত কারণে জেলার রোয়াংছড়ি -রুমা ও থানচি তিন উপজেলা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা বান্দরবান ভ্রমণে বিমূখ হয়ে পড়েছেন। ফলে আশানুরূপ পর্যটক না পাওয়ায় জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে পর্যটকগণকে গত ৮ অক্টোবর ২০২৪ হতে ৩১ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত বান্দরবান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন থেকে। ৮ নভেম্বর থেকে বান্দরবান সদর, লামা, আলিকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচিতে পর্যটক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
………………………….
আপনার মন্তব্য লিখুন